মেসির ঝলকে প্লে অফে মায়ামি

লিওনেল মেসি জোড়া গোল করার পাশাপাশি তাদেও আলেন্দেকে দিয়েও করিয়েছেন দুই গোল। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইন্টার মায়ামি শনিবার ন্যাশভিলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এমএলএস কাপ প্লে-অফের পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে।

৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসি ১০ মিনিটে প্রথম, ৩৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল যোগ করেন এবং পরে ৭৩ ও ৭৬ মিনিটে তার স্বদেশী আলেন্দের দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করে মায়ামির বড় জয় নিশ্চিত করেন।

ইন্টার মায়ামি ইস্টার্ন কনফারেন্সের প্রথম রাউন্ডের বেস্ট-অফ-থ্রি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে এফসি সিনসিনাটি—যারা আরেক সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে কলম্বাসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে।

আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি নিশ্চিত করেছেন মায়ামি চার মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে না যায়। গত বছর তারা আটলান্টার কাছে এবং ২০২২ সালে নিউ ইয়র্ক সিটির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল।

প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে ‘বেস্ট অব থ্রি’ সিরিজের প্রথমটিতে জিতেছিল মায়ামি, দ্বিতীয়টিতে ন্যাশভিল। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোরের এই ম্যাচটিই তাই ছিল দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণী। সেই লড়াই স্রেফ এক তরফা করে তুললেন মেসি। প্রথমবার কনফারেন্স সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বাদ পেল মায়ামি। এর আগে তারা বাদ পড়ে গিয়েছিল প্লে-অফের এই প্রথম রাউন্ড থেকে।

এবারের প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে তিন ম্যাচে মেসি গোল করলেন পাঁচটি, সহায়তা করলেন তিন গোলে। মায়ামির আট গোলেই তার অবদান। গোলের বাইরের অবদান তো বলে শেষ করার মতো নয়।

ন্যাশভিল এসসিও আরও একবার খাক হলো মেসির তেজে। এই দলের বিপক্ষে ১০ ম্যাচে তার গোল এখন ১৫টি।

মায়ামির মাঠে দশম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মেসি। নিজেদের অর্ধ থেকেই লম্বা করে দুর্দান্ত বল বাড়ান জর্দি আলবা। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকারভাবে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে মেসিকে দেন ১৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মাতেও সিলভেতি। বাকি কাজ সারেন মেসি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মায়ামির জালে বল পাঠান স্যাম সারিজ।। তবে গোল হয়নি ফাউলের কারণে। পরে দুটি গোল করেন মেসির স্বদেশী উইঙ্গার তাদেও আইয়েন্দে। এর প্রথমটিতেও ছিল মেসির অবদান, দ্বিতীয়টিতে সরাসরি অ্যাসিস্ট।

৭৩তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রস বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মেসিকে দেন আলবা। মেসি আবার আলতো টোকায় এগিয়ে দেন আলবার দিকেই। এই ডিফেন্ডার এবার কাটব্যাক করেন ঠিক গোলমুখে, যেখান থেকে বল জালে পাঠান আইয়েন্দে।

তিন মিনিট পরই মাঝমাঠ থেকে রক্ষণচেরা এক পাসে আইয়েন্দেকে খুঁজে নেন মেসি। আগুয়ান গোলকিপারের ওপর দিয়ে চিপ করে গোলের ঠিকানা খুঁজে নেন আইয়েন্দে।

এই গোল করিয়ে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৪০০ অ্যাসিস্টের ফাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।

নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি লুইস সুয়ারেস। তবে তার অভাব বুঝতে দেননি অন্যরা।

ইস্টার্ন কনফারেন্স সেমি-ফাইনালে আগামী ২২ নভেম্বর মায়ামির প্রতিপক্ষ সিনসিনাটি এফসি। এক ম্যাচেরই লড়াই এটি।

মেসির জন্যও সেটি মেলে ধরছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ন্যাশভিলের বিপক্ষে গোলের জোয়ার বইয়ে দিলেও সিনসিনাটির বিপক্ষে কখনও গোল করতে পারেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *