অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী শুধু একটি গাছ নয়, এটি প্রকৃতির অন্যতম নিয়ামক। শত বছর ধরে এটি ওষুধ, সৌন্দর্যচর্চা ও ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার শরীরের ভেতর ও বাইরে দু’দিক থেকেই উপকার এনে দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যালোভেরার বিভিন্ন গুণ
অ্যালোভেরার পুষ্টিগুণ
অ্যালোভেরা নানা ভিটামিন ও খনিজের উৎস। এটিতে প্রায় ২০ ধরনের খনিজ উপাদান রয়েছে। ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, ক্রোমিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ও ম্যাংগানিজ ইত্যাদি ভালো পরিমাণে রয়েছে। ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন এ, সি, ই এবং ভিটামিন বি১, বি২, বি৩,বি৬,ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে।
শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক সব অ্যামাইনো এসিডসহ প্রায় ১৮ থেকে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এ ছাড়াও ফলিক এসিড, কোলিন, ফ্যাটি এসিড ও প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
অ্যালোভেরার উপকারিতা
-দেহে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা।
-বিভিন্ন চর্মরোগ ও ক্ষত সারায়।
-অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
-অ্যালোভেরার আঠালো রস খাদ্যনালী ও পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার করতে পারে।
ত্বকের যত্নে
অ্যালোভেরা জেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং রোদে পোড়া বা পুড়ে যাওয়া ত্বক দ্রুত সারিয়ে তোলে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ব্রণ, দাগ, র্যাশ কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে করে উজ্জ্বল ও মসৃণ।
চুলের যত্নে
অ্যালোভেরা চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে, খুশকি কমায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার চুল পড়া রোধে কার্যকর।
হজমে সহায়ক
অ্যালোভেরার জুস ক্লান্তি দূর করে দেহকে সতেজ করে। এতে থাকা এনজাইম খাদ্য ভাঙতে সহায়তা করে এবং গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা এসিডিটির সমস্যা দূর করে। অ্যালোভেরাতে থাকা ল্যাকটেটিভ উপাদান পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
অ্যালোভেরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, সি, ও ই থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি শরীরে টক্সিন জমা কমায় এবং কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এটির ঔষধি গুণ রক্তচাপ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সাহায্য করে।
এটি দেহে সাদা ব্লাড সেল গঠন করে, যা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে।
ক্ষত সারাতে ও প্রদাহ কমাতে
অ্যালোভেরা জেল ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া কমে, দ্রুত নতুন কোষ গঠন হয়। তাই এটি প্রাকৃতিক ফার্স্ট-এইড উপাদান হিসেবেও পরিচিত।
সতর্কতা
-অ্যালোভেরা খেলে অনেক সময় পেটের সমস্যা ও এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
-নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অ্যালোভেরা রাখতে চাইলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো।