শীতের বাজারে সহজেই পাওয়া যায় মিষ্টি আলু। স্বাদে মিষ্টি হলেও এটির পুষ্টিগুণ অসাধারণ। সহজলভ্য এই খাবারটি শরীরকে দেয় শক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। জেনে নেই মিষ্টি আলুর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ—
১. ভিটামিন–এ সমৃদ্ধ
মিষ্টি আলু ভিটামিন–এ এবং বিটা–ক্যারোটিনে ভরপুর। এটি চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করে, ত্বক সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
২. উচ্চমাত্রার ফাইবার
ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমশক্তি উন্নত করে। দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা কমে যায়—ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
মিষ্টি আলুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রদাহ কমায় এবং কোষের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. পটাশিয়ামের ভালো উৎস
পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে মিষ্টি আলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. শক্তি জোগায়
মিষ্টি আলুর জটিল কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘসময় শক্তি জোগায়। রক্তে সুগারের মাত্রা ধীরে বাড়ায়, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি তুলনামূলক নিরাপদ।
স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর মিষ্টি আলু তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে।
মিষ্টি আলু খাওয়ার আরো কিছু উপকারিতাঃ
() মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন আছে, যা আমাদের দেহে ভিটামিন এ-তে পরিণত হয়। এই ভিটামিন চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিটা ক্যারোটিনের অভাবে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে শিশু এবং প্রসূতিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায়।
() মিষ্টি আলুতে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
() এতে কোনও ধরনের চর্বিজাতীয় পদার্থ নেই। আঁশজাতীয় মিষ্টি আলু খেলে ক্ষুধা লাগে না সহজে। ডায়েট চার্টে তাই এটি রাখতে পারেন সহজেই।
() গর্ভবতী মায়ের জন্য মিষ্টি আলু খুবই উপকারী। এটি গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি সহায়ক।
() প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে মিষ্টি আলুতে। পটাসিয়াম হার্টের রোগ থেকে দূরে রাখে। পাশাপাশি মাংসপেশির যত্ন নেয়।
() মিষ্টি আলুতে থাকা ফাইবার ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
() কলার চাইতেও বেশি পটাসিয়াম পাওয়া যায় মিষ্টি আলু থেকে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা খেতে পারেন এই আলু। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
() মিষ্টি আলুতে ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা পেট, কিডনি এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
() হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুর সুস্থতা বজায় রাখে মিষ্টি আলু।
() ত্বক ও চুল ভালো রাখতে চাইলে নিয়মিত খান মিষ্টি আলু।