প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের টানা চার হার

তিন দিন আগে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে বড় জয়ে কয়েক সপ্তাহের হতাশা মুছে ফেলার বার্তা দিলেও, পরের ম্যাচেই আবার দিক হারিয়ে ফেলল লিভারপুল। উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিল ব্রেন্টফোর্ড।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পথে পুরো মৌসুমে চারটি ম্যাচ হেরেছিল লিভারপুল। কিন্তু নতুন মৌসুমের শুরুতেই সেই সংখ্যায় পৌঁছে গেছে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি। প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা জয়ের পর এখন টানা চার পরাজয়ে বিপাকে ‘অল রেডস’।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ৩-২ গোলে হারের পর দলটির কোচ আর্নে স্লট বলেন, ‘চার হারের মধ্যে এটি সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধের কিছু সময় আমরা স্বাভাবিক ছন্দেই ফিরতে পারিনি। প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে বেশি ডুয়েল জিতেছে, যা পুরো পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

ম্যাচের শুরুতেই লিভারপুলকে ধাক্কা খেতে হয়। পঞ্চম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে গোল করেন ব্রেন্টফোর্ডের ডাংগো ওয়াতারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কেভিন শাডের গোলে ব্যবধান বেড়ে যায় ২-০ তে। যোগ করা সময়ে মিলোস কেরকেজের গোলে এক গোল শোধ করে বিরতিতে যায় লিভারপুল।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো, ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। ম্যাচের শেষ দিকে (৮৯ মিনিটে) গোল করে ব্যবধান কমান মোহাম্মদ সালাহ—৬ ম্যাচ পর গোলের দেখা পেলেন তিনি। কিন্তু সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম টানা চার ম্যাচে হারল লিভারপুল। ৯ ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে লিভারপুল। আট ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে উঠে এসেছে ব্রেন্টফোর্ড।

প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এটি চতুর্থবারের মতো কোনো বর্তমান চ্যাম্পিয়নের টানা চার ম্যাচে হার। এর আগে ২০১৬–১৭ মৌসুমে লেস্টার সিটি, ২০২০–২১ সালে লিভারপুল এবং গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি একই পরিণতির শিকার হয়েছিল। অর্থাৎ চারবারের ঘটনায় দুইবারই ভুক্তভোগী লিভারপুল।

অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রাইটনের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে টানা তৃতীয়বার জয় পেয়েছে রুবেন আমোরিমের দল। নয় ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেড উঠে এসেছে শীর্ষ চারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *