পাকা নয়,যেসকল কারণে কাঁচা পেঁপে বেশি করে খাবেন

মানুষ, পাখি পাকা পেঁপে খেতে ভালবাসলেও কাঁচাতেও এই ফলের কম উপকারিতা নেই। পেঁপে পাকলে তবেই তা স্বাস্থ্যগুণে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে, অনেকে তেমনটাই বিশ্বাস করেন। এই কারণে, পাকা পেঁপের কদর অনেক বেশি। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, পেঁপে কাঁচা অবস্থায় খেলে বেশি সুফল মেলে। তরকারি হিসেবে যেমন খাওয়া যায় কাঁচা পেঁপে, তেমনি পাকোড়া বা সালাদেও ব্যবহার করা যায় এটি। তার মানে এই নয় যে, পাকা পেঁপের কোনও স্বাস্থ্যগুণ নেই। তবে কাঁচা পেঁপে খেলে বাড়তি কিছু উপকার পাওয়া যায়। সেগুলি কী?

হজমের গোলমাল ঠেকায়

হজমের গোলমাল ঠেকাতে কাঁচা পেঁপে উপকারী। পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন বিপাকহার বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াও পেঁপেতে থাকা ফাইবার পেটের গোলমালের ঝুঁকি কমায়। হজম সংক্রান্ত সমস্যায় পেঁপে ওষুধের মতো কাজ করে।

ত্বকের খেয়াল রাখতে

পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই। এ ছাড়াও এতে আছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-এর মতো উপাদান। ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বককে ভিতর থেকে সতেজ এবং সজীব রাখে। ত্বকের পুষ্টিদায়ক উপাদান কোলাজেন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে পেঁপে। নিয়ম করে পেঁপে খেলে ত্বক ঝলমলে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে

ছিপছিপে থাকতে ভরসা রাখতে পারেন কাঁচা পেঁপের উপর। পেঁপেতে রয়েছে ফাইবার, যা ওজন ধরে রাখতে দারুণ উপকারী। পেঁপেতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন ঘন খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় না। ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।

এছাড়াও পাকা পেঁপের তুলনায় কাঁচা পেঁপেতে পাওয়া যায় আরো কিছু পুষ্টিগুণ। ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ কাঁচা পেঁপে নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী থাকে। 

প্রোভিটামিন, ডায়াটারি ফাইবার এবং মিনারেল সমৃদ্ধ কাঁচা পেঁপে দাঁত ভাল রাখে।

ফলিক অ্যাসিড মেলে কাঁচা পেঁপেতে। এটি আমাদের হৃদরোগ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। 

কাঁচা পেঁপেতে থাকা ভিটামিন সি জয়েন্ট ব্যথা কমাতে সহায়ক। 

কাঁচা পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ আমাদের ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। 

আবার, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁচা পেঁপের রস রাখলে যেসব উপকার পাওয়া যায়-

শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে

কাঁচা পেঁপের রসে প্রায় ৮৮ শতাংশ পানি থাকে। ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। গরমের দিনে এটি প্রাকৃতিক কুল্যান্টের মতো কাজ করে। এ ছাড়া হালকা ডায়ুরেটিক হিসেবেও কাজ করে, অর্থাৎ শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।

ত্বক করে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার

ত্বকে ব্রন, দাগ বা রঙের পার্থক্য দেখা দিলে কাঁচা পেঁপের রস হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ ও সি, যা ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। এই রস শরীরের অভ্যন্তর থেকে টক্সিন দূর করে, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

শরীরকে অসুখের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রাখতে কাঁচা পেঁপের রস বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিনস ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ উপাদানগুলো আমাদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় এই রস নিয়মিত খেলে ঠান্ডা, জ্বর বা সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকে।

চোখের যত্নে কার্যকর

সারাদিন কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। কাঁচা পেঁপেতে থাকা ক্যারোটিনয়েড। ভিটামিন এ তৈরিতে যা সাহায্য করে। এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা বলছে, গাজর বা টমেটোর তুলনায় কাঁচা পেঁপেতে ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বেশি, ফলে এটি চোখের ক্লান্তি কমায় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *