আনারকলি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, প্যারাগুয়ের প্রকৃতিতে জন্মায়। ইংরেজি নাম প্যাশন ফল। বৈজ্ঞানিক নাম প্যাসিফ্লোরা এডুলিস। ইদানীং বাংলাদেশেও এর চাষ হচ্ছে। বিদেশি হলেও কক্সবাজার সৈকতে দেশি ফলের মতোই বিক্রি হয়। টক, মিষ্টি স্বাদের এই ফল পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের।
একটি সুস্বাদু গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল যা স্বাদে ফেটে যায়! রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমশক্তির উন্নতি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি।
প্যাশন ফলের পুষ্টির মান
নীচের তালিকাটি নির্দেশ করেপ্যাশন ফলের পুষ্টিগুণ:
>ক্যালোরি: 229
>চর্বি: 1.7 গ্রাম
>সোডিয়াম: 66.1 মিলিগ্রাম
>কার্বোহাইড্রেট: 55.2 গ্রাম
>ফাইবার: 24.5 গ্রাম
>চিনি: 26.4 গ্রাম
>প্রোটিন: 5.2 গ্রাম
>ভিটামিন সি: 70.8 মিলিগ্রাম
>ভিটামিন এ: 151mcg
>আয়রন: 3.8 মিলিগ্রাম
>ম্যাগনেসিয়াম: 68.4 মিগ্রা
>পটাসিয়াম: 821 মিলিগ্রাম
উৎপত্তিস্থল: দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষত আমাজন অঞ্চলের ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং উত্তর আর্জেন্টিনা।
বিস্তার: বর্তমানে এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়, যেমন হাওয়াই, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কেনিয়া।
বাংলাদেশে এর জনপ্রিয়তা ও বিস্তার:
কৃষি বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আনারকলি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের প্রকৃতিতে জন্মায়। ইংরেজি নাম প্যাশন ফল। বৈজ্ঞানিক নাম প্যাসিফ্লোরা এডুলিস। ইদানীং বাংলাদেশেও এর চাষ হচ্ছে। বিদেশি হলেও কক্সবাজার সৈকতে দেশি ফলের মতোই বিক্রি হয়। টক–মিষ্টি স্বাদের এই ফল পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের।
মৃদু টক-মিষ্টি স্বাদের আনারকলি ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন। প্রতি পিস আনারকলি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে আনারকলি ফল চাষ করা যায়। যে কারণে এর উৎপাদন খরচও কম। ফলে নেই কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্বাদে-গন্ধে অনন্য এ ফলের আবাদে দেশের ফল উৎপাদনে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ হাসান স্টালিন জানান, ৬-৭ বছর আগে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজে নতুনত্ব আনতে চেয়েছেন। প্রথমদিকে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও আঙুর চাষ শুরু করেন।
২০২২ সালের মাঝামাঝি প্যাশন ফ্রুটের খবর দেখে আগ্রহী হন। ওই বছরই পরীক্ষামূলকভাবে ২ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। গত বছর বাগান থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেন। চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। গড়ে মাত্র দুই শতক জমিতে এ ফল চাষ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আরও আড়াই বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝিনাইদহে নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফল উৎপাদন হচ্ছে। মহেশপুরের মাহমুদ হাসান স্টালিন বিদেশি প্যাশন ফ্রুট চাষ করে দারুণ ফলন পেয়েছেন। জেলা কৃষি বিভাগ থেকে স্টালিনসহ সব কৃষককে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।